এক্রেলিক কালার
৩০×২৪
কিছু অসহায়ত্বের ভাষাও থাকে না, কোন প্রকাশও থাকে না........
দু'চোখে কান্না হয়ত থাকে ,কিন্তু কাওকে কিছু বলার সাহস থাকে না !!
একটি ৯ মাসের শিশু যাকে কোলে নিতে হাত কাঁপতে থাকে । কারণ সুন্দর ভাবে নিতে না পারলে সে ব্যাথা পাবে এটা ভেবে, আর আজ তাকে কিনা নিজ চাচা,মামা/জেঠা হাতে ধর্ষিত হতে হয় !
শিশুদের ওপরে যৌন নিপীড়ন চালানোর একটা বড় কারণ বিকৃত মানসিকতা, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় পিডোফিলিয়া। মনোবিজ্ঞানে পিডোফিলিয়া মানসিক বিকৃতি বলেই স্বীকৃত।
বাংলাদেশে বেশীরভাগ মানুষ যৌনতা নিয়ে প্রথম জানতে পারে পর্ন ভিডিও কিংবা একটু অকালে পেকে যাওয়া বন্ধুর এডাল্ট টাইপ আড্ডার আসর থেকে ।
তাই শুরু থেকেই এই জিনিস নিয়ে আমাদের মধ্যে এক ধরণের লুকোচুরি ভাব থাকে ৷ এই ব্যাপারে আমাদের কখনো পরিবার থেকে সতর্ক করা হয় না । কথা বলা হয় না । কারণ এই জিনিসগুলো নিয়ে কথা বলা আমাদের সমাজে এক প্রকার নিষিদ্ধ।
একটি শিশুকেও যে খুব সুন্দর করে তার বডির প্রাইভেট পার্ট সম্পর্কে , কোনটা আদর আর কোনটা খারাপ ইন্টেনশনে হাত দেয়া , তার নিজের সেইফটি সম্পর্কে ধারণা দেয়া যায় এটা আমরা অনেকে জানিনা ।
আর এই সমস্ত কারণে বেশীর ভাগ ছেলে শিশু কিংবা মেয়ে শিশু বড় হওয়ার পর বুঝতে পারে যে সে তার
কোন এক নিকট আত্নীয়, শিক্ষক কিংবা ওই আংকেলটা যে তাকে ছোট বেলায় কেমন করে যেন আদর করতো সেটা আদর ছিল না বরং ছিল তার বিকৃত যৌন লালসা ৷
ফটিকছড়িতে ৯ মাসের বাচ্চাকে ধর্ষণ আর ঢাকার ওয়ারিতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা ব্যাপার গুলো খুবই এলার্মিং । ২০১৯ সালে জুন পর্যন্ত ৩৯৯ টি শিশু ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে ৷ বছর শেষ হতে আরো ৬ মাস বাকি ! ২০১৮ সালে যার সংখ্যা ছিল ৩৫৬ জন ।
( তথ্যসূত্রঃ বিবিসি বাংলা )
প্রত্যেক বাবা মায়ের এখনই নিজের পরিবারের আদরের ছোট সদস্যটিকে তাদের মত করে এসব বিষয় নিয়ে জানানো এবং সতর্ক করা উচিত । আমরা হয়তো ইমিডিয়েটলি সব কালপ্রিটকে শনাক্ত করতে পারবো না ৷
কিন্তু আমরা আমাদের এই ছোট্ট শিশুদের এসব ব্যাপারে সতর্ক ঠিকই ইমিডিয়েটলি করতে পারবো । যেহেতু শিশুরা ফেসবুক ইউজ করেনা তাই এই ক্যাম্পেইন ফেসবুকে না বরং নিজ নিজ বাসায় আমাদের নিজেদেরকে করতে হবে । আর সেটা আজকে এখন থেকেই করতে হবে ৷